Wednesday, 2 January 2019

থ্রিলার কাহিনি (মোবাইল ভাঃ): আরব সাগরে আতঙ্ক

আরব সাগরে আতঙ্ক
শিশির বিশ্বাস
জাবেল আলি পোর্ট থেকে মূল দুবাই শহর বিরাট কিছু দূর নয় তবু কার্গো শিপ এম ভি পোরবন্দরের ক্যাপ্টেন জগদীশ লাম্বা আজও কিছু আগেই বের হয়েছিলেন গত কাল ধাওয়া করেছিলেন ইণ্ডিয়ান এমব্যাসির অফিসে কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ রয়েছে জাহাজ দুবাই পোর্টে ভিড়লে একবার হলেও আসেন আসলে ইউরোপ থেকে ইস্ট আফ্রিকা আর এশিয়ার দেশগুলোয় যাওয়ার জাহাজ মানেই সুয়েজ ক্যানেল আর সোমালিয়ার সমুদ্র পথ ভাবতে গেলেই এখন জাহাজে প্রতিটি ক্রুর কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু করে
৪০ হাজার টনের কার্গো শিপ এম ভি পোরবন্দরের ক্যাপ্টেন জগদীশ লাম্বার এবার অবশ্য ভয়েজ নিয়ে তেমন মাথা ঘামাবার দরকার হয়নি গোড়ায় ঠিক ছিল পোর্ট নেপোলিয়ন থেকে কার্গো নিয়ে যেতে হবে লাগোস নাইজেরিয়ার বন্দর সেফ রুট ছন্দপতন তারপরেই হঠাৎই হেড অফিস থেকে মেসেজ লাগোস নয় কার্গো তুলতে হবে মোম্বাসার জন্য অর্থাৎ নাইজেরিয়ার বদলে কেনিয়া নতুন রুট এবার সুয়েজ হয়ে সোমালিয়ার সমুদ্র
ক্যাপ্টেন জগদীশ লাম্বা অনেক দিনের অভিজ্ঞ হেড অফিস ভেঙে না বললেও বেশ জানেন লাগোসের কাজটা দেওয়া হয়েছে অন্য কোনও জাহাজকে সন্দেহ নেই সেই জাহাজের ক্যাপ্টেন বা অন্য কোনও অফিসারের হাত রয়েছে উঁচু মহলে কোম্পানির কর্তারা সেই অনুরোধ ফেলতে পারেনি কপাল পুড়েছে এম.ভি পোরবন্দরের অগত্যা জাহাজের রুট এবার সুয়েজ হয়ে রেড সী তারপর সোমালিয়ার সমুদ্রপথ এক কথায় সারা পৃথিবীর জাহাজ কোম্পানির আতঙ্ক
অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেও সব অন্য রকম ছিল প্রতি দিন কয়েক ডজন কার্গো সিপ নিশ্চিন্তে এই পথে যাওয়াআসা করত কিছুমাত্র সমস্যা ছিল না অবস্থার পরিবর্তন গত  শতকের নব্বুইয়ের দশকে গৃহযুদ্ধের কারণে সোমালিয়ার তখন নাভিশ্বাস প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার মানুষ পাড়ি জমাতে শুরু করেছে প্রতিবেশী ইথিওপিয়া আর কেনিয়ায় সোমালিয়ার বিশাল সমুদ্র উপকূল প্রায় অরক্ষিত ইউরোপের দেশগুলো সেই সুযোগ নিতে দেরি করেনি সোমালিয়ার মৎস্যজীবী মানুষদের সরিয়ে তারা অত্যাধুনিক ট্রলার নিয়ে চুটিয়ে মাছ ধরতে শুরু করে দেয় শুধু তাই নয় শোনা যায় শুরু হয়ে গিয়েছিল কিছু অন্য কাজও ইউরোপের বিভিন্ন কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার ভাগাড় হয়ে উঠেছিল সোমালিয়ার সমুদ্র
ব্যাপারটা অন্যায় অবশ্যই আর সেই অন্যায়কে মূলধন করেই কিছু মানুষ নেমে পড়ল ধান্দায় সোমালিয়া উপকূলের গরিবগুরবো মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল মাছ ধরা কায়ক্লেশে দিন চলত দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এমনিতেই দুরাবস্থার চুড়ান্ত পেটে খাবার নেই চিকিৎসার ওষুধ নেই ঘরে ঘরে নানা চর্মরোগ পেটের অসুখ আগেও ছিল কিছু ধান্দাবাজের দল রটিয়ে দিল এসব সোমালিয়ার সমুদ্রে বর্জ্য পদার্থ ফেলার কুফল রটে গেল বর্জ্য পদার্থের মধ্যে নাকি পারমানবিক চুল্লির বর্জ্যও রয়েছে
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেই শুরু হয় প্রতিরোধ এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি গোড়ায় শুরু হয়েছিল ছোট করেই মাছ ধরার নৌকোই সম্বল তাতে চেপে সাগরে টহল জাহাজ দেখলেই ঘিরে ফেলে ভাগিয়ে দেওয়া এটা করতে গিয়েই সহজ সরল গরিবগুর্বো মানুষগুলো লক্ষ করল ঝকঝকে জাহাজগুলো আকারেই বিশাল দেখলে সম্ভ্রম জাগে কিন্তু প্রতিরক্ষার সামান্য ব্যবস্থাও তাতে নেই ততদিনে হাতে টানা দেশি নৌকোর বদলে মোটর লাগানো বোট চলে এসেছে তাদের হাতে আকারে ছোট হলেও মজবুত গতি অনেক বেশি ছুটে গিয়ে সহজেই ঘিরে ফেলা যায় বিশাল আকারের জাহাজগুলোকে তারপর জাহাজের গ্যাংওয়ে একবার ধরে ফেলতে পারলেই কেল্লা ফতে সিঁড়ি বেয়ে জাহাজের ডেকে
গোড়ায় চটজলদি লুটপাট করেই চলে যেত পরে শুরু হল পণবন্দি একেবারে গোটা জাহাজ ব্যাপারটা ভাবতে অসম্ভব মনে হলেও আসলে তা নয় একে৪৭ উঁচিয়ে জাহাজ একবার সোমালিয়া সমুদ্র সীমার মধ্যে ঢোকাতে পারলেই হল আইসিসি  (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম কনভেনশন) অনুসারে ব্যাপারটা তখন সোমালিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয় যে দেশের জাহাজ তারা শুধু সোমালিয়া সরকারকে অনুরোধ করতে পারে জাহাজ উদ্ধার করে দেবার জন্য তার বেশি নয়
এদিকে সোমালিয়ায় স্বীকৃত সরকারের যেটুকু কর্তৃত্ব তা উত্তরাঞ্চলে দক্ষিণাঞ্চল কার্যত বিদ্রোহী জঙ্গিদের দখলে সেখানে আল শাবাশ হিজবুল ইসলাম সহ একাধিক ছোটবড় জঙ্গি সংগঠনের কর্তৃত্ব সোমালিয়ার স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে এই ইসলামী জঙ্গিদের লড়াই প্রতিনিয়ত জলদস্যু দমনে নজর দেবার সময় কোথায়? সুতরাং যা ঘটবার তা ঘটে চলেছে জলদস্যুরা একটা জাহাজ পণবন্দি করতে পারলেই মুক্তিপণ বাবদ বিপুল অঙ্কের ডলার  
 শুরুতে এই দুষ্কর্মে মৎস্যজীবীদের সঙ্গে যোগ ছিল সোমালিয়া উপকূলে সামান্য মাইনের কিছু কোস্ট-গার্ডের তারাই যুগিয়েছিল একে৪৭এর মতো অস্ত্র স্পীডবোট আর প্রয়োজনীয় পরামর্শ আর এখন তো শোনা যায় সোমালিয়ার সেনাবাহিনী কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রী আর নেতাদের অনেকেই এই কাজে যুক্ত হয়ে পড়েছে এ ছাড়া একাধিক ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠী তো আছেই লুঠের টাকার ভাগ এদের কাছে যথাসময়ে পৌঁছে যায় দুবাই প্রভৃতি শহরে তাদের ঝাঁ চকচকে প্রাসাদতূল্য বাড়ি তুলনায় যারা সরাসরি জলদস্যুর কাজে যুক্ত সেই সোমালিয়ার সাধারণ মানুষের দিন সেই অর্থে বিরাট কিছু বদলায়নি তবু কিছু পরিবর্তন তো হয়েছেই ঝুপড়ি বাসস্থানের পরিবর্তে এখন নতুন পাকা বাড়ি টিভি ফ্রিজ আধুনিক জীবনের যাবতীয় উপকরণ অনেকের গ্যারেজে ঝাঁ চকচকে নতুন মডেলের গাড়ি জলদস্যুতার নামে সোমালিয়ার অতি সাধারণ মানুষের চোখও তাই এখন জ্বলজ্বল করে ওঠে কিশোর বয়সেই তারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দেয় সোমালিয়ার সমুদ্র উপকুল তাই আজ এককথায় আতঙ্ক
জলদস্যুদের কাজেও অবশ্য অনেক পরিবর্তন এসেছে এখন আর সোমালিয়া উপকূলে নয় গভীর সমুদ্রে অপেক্ষা করে থাকে অত্যাধুনিক মানের মাদার শিপ শিকারের সন্ধান পেলেই জলদস্যুদের কোনও এক দল স্পীডবোটে রওনা হয়ে পড়ে কখনও মাছ ধরা ট্রলারে দেখে বোঝাই মুশকিল সঙ্গে আজ আর শুধু একে৪৭ নয় হেভি মেশিনগান টেলিস্কোপিক রাইফেল রকেট প্রপেলড গ্রেনেড তথা আর.পি.জি এমন কী রকেট পর্যন্ত
সুতরাং নড়ে বসতেই হয়েছে আমেরিকার তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন দেশ নিয়ে তৈরি হয়েছে কম্বাইন্ড টাস্ক ফোর্স তাতে সামিল ভারতও একাধিক যুদ্ধজাহাজ হেলিকপ্টার সীপ্লেন নিয়ে টহল প্রয়োজনে এস্‌কর্ট করে নিয়ে যাওয়া। ধরাও পড়েছে জলদস্যুদের বেশ কিছু বোট অস্ত্রশস্ত্র তাতে উপদ্রব সামান্য কমেছে মাত্র নির্মূল করা যায়নি সম্ভবও নয় শুধু সোমালিয়া উপকূল নয়  সোমালিয়ার জলদস্যুর দল আজ ছড়িয়ে পড়েছে দূর সমুদ্রেও আধুনিক মানের রেডার হেলিকপ্টার নিয়েও কাজটা খুব সহজসাধ্য নয় ওদিকে খরচও কম নয় সেই কারণে এশিয়ার দেশ বলতে জাপান চিন আর ভারত ছাড়া অন্য কেউ তেমন সক্রিয়ও নয় অনেক দেশেরই উপস্থিতি নামেমাত্র
বড় জাহাজ কোম্পানির অনেকে এজন্য জাহাজে নিজস্ব সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করতেও শুরু করেছে এ কাজে উপযুক্ত মানের শ্যুটার পাওয়া সহজ নয় খরচও যথেষ্ট তাই বেশিরভাগ কোম্পানিই এখনও সে পথে যায়নি অগত্যা সোমালিয়ার জলদস্যুদের দাপট চলছেই সামান্য কমেছে এই মাত্র
অগত্যা এপথে জাহাজ নিয়ে বের হওয়া মানেই মাথার উপর ঝুলন্ত খাঁড়া অথচ আজ সন্ধেয় জাহাজ ছাড়ার কথা জনা কুড়ি ক্রু আর অফিসারের মুখে ইতিমধ্যে তাই বর্ষার কালো মেঘ সকালে বেরোবার আগেও সেকেন্ড অফিসার অনন্ত মুলে ঘাড় চুলকে জানতে চেয়েছিল কিছু ব্যবস্থা করা গেল কিনা
জগদীশ লাম্বা কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি জাহাজ আবুধাবির জাবেল আলি বন্দরে পৌঁছেছে তিন দিন হল মামুলি কিছু মেরামতির জন্য তবে জাহাজের পুরোন কর্মচারীরা জানে ক্যাপ্টেনের আসল উদ্দেশ্য শিপিং লাইনে অনেক দিনের পুরোন মানুষ জগদীশ লাম্বা পরিচিতর সংখ্যা কম নয় ইন্ডিয়ান এমব্যাসিতেও চেনাজানা রয়েছে জাহাজের অনেকেই আশা করেছিলেন এসকর্টের একটা ব্যবস্থা হয়তো করতে পারবেন দুবাই বন্দরে জাহাজ ভেড়ানো সেই কারণে
জগদীশ লাম্বা অবশ্য জানেন ব্যাপারটা একেবারেই সহজ নয় তবু গতকালই ধাওয়া করেছিলেন ইন্ডিয়ান এমব্যাসিতে সুবিধা হয়নি
তবু চেষ্টা ছাড়েননি দুবাই শহরে চেনাজানা কম নেই এমব্যাসি রয়েছে আরও অনেক দেশের পোর্টে তাদের জাহাজও রয়েছে এসকর্টের অন্য একটা ব্যবস্থার সম্ভাবনা থাকতেও পারে তাদের সঙ্গে ভিড়ে পড়তে পারলে চিন্তা থাকেনা তাই ধাওয়া করেছিল আজও কিন্তু নিরাশ হতে হয়েছে সারা দিনে ঢুঁ মেরেছেন আরও কয়েক জায়গায় কিন্তু কাজের কাজ হয়নি
দিনভর ছুটোছুটির পর হতাশ মানুষটি ঢুকে পড়েছিলেন পোর্ট এরিয়ার এক পাবে কড়া একটা পানীয় নিয়ে বসেছিলেন হাতে ফাইভ ফিফটি ফাইভ পুরো চার পেগের মাথায় টেনশনটা যখন কিছু কমতে শুরু করেছে আরও এক পেগ নেবেন কিনা ভাবছেন পকেটে মোবাইলটা বেজে উঠল ভেবেছিলেন জাহাজের কেউ হয়তো সাহেব এখনও না ফেরায় খোঁজ করছেন কিন্তু মোবাইল বের করে নম্বরের উপর চোখ বোলাতেই ভুরু কুঁচকে উঠল সম্পূর্ণ অপরিচিত একটা নম্বর কলটা রিসিভ করতেই ও প্রান্ত থেকে উত্তর এলহ্যাল্লো স্যার আমি জাভেদ বার্কি চিনতে পারছেন?’
মুখটা মুহূর্তে চুপসে গেল জগদীশ লাম্বার বিলক্ষণ চিনতে পেরেছেন লোকটা মুম্বাই মাফিয়া জগতের মানুষ পুলিশের তাড়া খেয়ে দুবাইতে এসে ঠেক নিয়েছে লোকটার সঙ্গে মুম্বাইতে এক নাইট ক্লাবে আলাপ তখন অবশ্য লোকটার আসল পরিচয় জানতেন না পরে তাই আর যোগাযোগ রাখেননি অন্যপক্ষও চেষ্টা করেনি এতদিন পরে হঠাৎ কী এমন ব্যাপার হল জগদীশ লাম্বা বুঝে উঠতে পারলেন না চট করে উত্তর জোগাল না ওদিকে অন্য পক্ষ থেমে নেই সামান্য অপেক্ষার পর ফের কথা বললস্যার বুঝতেই পারছেন নিতান্ত অপারগ হয়েই ফোন করতে হয়েছে আপনাকে
কেন? কী দরকার?’ তাড়াতাড়ি জগদীশ লাম্বার উত্তর
স্যার আমার গ্যাংয়ের এক ছোকরা হঠাৎ কিছু ফেঁসে গেছে আর এই দুবাইয়ের আইন তো জানেন ধরা পড়ে গেলে সারা জীবন জেলের ঘানি নয়তো কোতল খবর পেলাম আপনার জাহাজ সন্ধেয় ছাড়ছে ছোকরাটাকে উদ্ধার করে দিতে হবে স্যার
জাভেদ বার্কি কী বলতে চাইছে ততক্ষণে জগদীশ লাম্বার বুঝতে বাকি নেই পা থেকে মাথা পর্যন্ত প্রায় শিউরে উঠল একেই চিন্তার শেষ নেই তার মধ্যে এই আপদ মুম্বাই আন্ডার ওয়ার্ল্ড জগতের অনেক খবরই কানে আছে লোকটার অনুরোধ যথেষ্টই নরম গলায় কিন্তু বেশ জানেন পান থেকে চুন খসলেই মুহূর্তে পালটে যেতে পারে হাসতে হাসতে হোলস্টার থেকে পিস্তল বের করে ম্যাগাজিন খালি করে ফেলতে সময় লাগবে না
কী উত্তর দেবেন জগদীশ লাম্বা ভাবছিলেন ও প্রান্ত অবশ্য থামল নাস্যার আপনি লাইনের মানুষ হলে এখনই দেড়দুইখোঁকাঅফার করে ফেলতাম কাজটা খুবই জরুরি অথচ হাতে সময় কম আজ সন্ধেয় একমাত্র আপনার জাহাজটাই ছাড়ছে কাজটা করে দিতেই হবে
শুনতে যত মিষ্টিই হোক প্রায় হুমকি জগদীশ লাম্বাকে অগত্যা মুখ খুলতেই হলতা পাসপোর্ট আছে তো?’
হ্যাঁ স্যারপাত্তাতো জরুর আছে তবে ওসবের দরকার হবে না পোর্ট ছাড়ার আগে জাহাজে কেউ উঠবে না ঠিক সময়ে হাজির হয়ে যাবে
ও কেকথা না বাড়িয়ে ফোন ছেড়ে দিলেন জগদীশ লাম্বাপাত্তাখোঁকামুম্বাই আন্ডার ওয়ার্ল্ডয়ের অতি পরিচিত শব্দ প্রথমটা জাল পাসপোর্ট দ্বিতীয়টা কোটি টাকা অভিজ্ঞ মানুষ জগদীশ লাম্বা অগত্যা টেলিফোনে বেশি বাক্যালাপ করতে ভরসা পেলেন না দিনটাই খারাপ গেল আজ পাবে এসেছিলেন কিছু টেনশন কাটাতে বরং বেড়ে গেল আরও
এই দুবাই শহরেও জাভেদ বার্কির হাত কতদূর প্রসারিত জগদীশ লাম্বা টের পেয়ে গেলেন সেই রাতেই জাহাজ ছেড়েছিল যথাসময়েই হারবার পাইলট যথাস্থানে জাহাজ পৌঁছে দিয়ে ফিরেও গেছে অনেকক্ষণ চার্জ বুঝে নিয়ে নেভিগেটিং অফিসার জাহাজের দায়িত্বে ওমান গালফ পার হয়ে জাহাজ খোলা সাগরে এই রাতে কারগো সিপের ক্যাপ্টেনের কাজ নেই কেবিনে গিয়ে শুয়ে পড়ার কথা তবু হুইল হাউসেই ছিলেন এতক্ষণ এই রাতে খোদ বড় সাহেব হুইল হাউসে পড়ে রয়েছেন দেখে ফার্স্ট অফিসারও রয়ে গেছেন। ব্রীজে ওয়াচে থাকা অন্য ক্রুদেরও অস্বস্তি। ওদের অযথা বিব্রত করা হচ্ছে বুঝে অনিচ্ছা সত্ত্বেও একসময় নিজের কেবিনে চলে আসতে হয়েছে
বার্কির কথা মিথ্যে হবে না জানেন কিন্তু এই মাঝ সমুদ্রে তার সেই লোক কীভাবে এসে পৌঁছবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না সেই জন্যই নিজে উপস্থিত থাকতে চেয়েছিলেন ব্যাপারটা কাউকে বলতে পারেননি ফার্স্ট অফিসার আনন্দ শর্মা অত্যন্ত কড়া ধাতের মানুষ বয়সেও বড় ভাবনা তাঁকে নিয়েই ব্যাপারটা তিনি কীভাবে নেবেন বুঝতে পারছিলেন না এমন ঝামেলায় কমই পড়েছেন
ভাবতে ভাবতে চোখের পাতা সবে ভারি হতে শুরু করেছে আচমকা বিপদ ঘণ্টি বাজতে শুরু করল ঘরে ইন্টারকম ফোনও বেজে উঠল তুলতেই ও প্রান্ত থেকে ফার্স্ট অফিসার আনন্দ শর্মার উত্তেজিত গলাস্যার পাইরেট বোট
পাইরেট বোট! এই ওমান সাগরে!’ ভুরু কুঁচকে জগদীশ লাম্বা বললেন
হ্যাঁ স্যার তাই তো মনে হচ্ছে দেশী এক বোট তীব্র বেগে ছুটে আসছে জাহাজের দিকে রেডারে আগেই ধরা পড়েছিল তেমন গুরুত্ব দেয়নি এখন আর সন্দেহ নেই ব্রীজে মুলে সাহেব ছিলেন। ফোন করতে ছুটে এসেছি।
বোটে কজন আছে?’
দুজন স্যার তার একজন বোটম্যান
দুজন?’ এই প্রথম কিছু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন জগদীশ লাম্বা হঠাৎ পাইরেটের কথায় বেশ ঘাবড়েই গিয়েছিলেন তাহলে জাবেদ বার্কির সেই ব্যক্তিটি এসেই গেছেন বলা যায় শুধু মাত্র এই কারণেই সেই থেকে হুইল হাউসে বসে ছিলেন তিনি কীভাবে কেসটা সামলাবেন সেই ভাবনায় সামান্য বিরতি দিয়ে বললেনতাহলে তাহলে ভাবনা নেই শর্মা সাহেব গ্যাংওয়েটা নামিয়ে দিন বরং
গ্যাংওয়ে নামিয়ে দেব!’ ফার্স্ট অফিসার প্রায় আকাশ থেকে পড়লেন
হ্যাঁক্যাপ্টেন জগদীশ লাম্বার কণ্ঠস্বর প্রায় হিমশীতলযিনি আসছেন তিনি একজন স্নাইপার অযথা বাক্যব্যয় না করে চটপট জাহাজে তুলে নিন আমার ডেকের ফাঁকা সুইটেই থাকবেন
স্নাইপার!’ ফার্স্ট অফিসার আনন্দ শর্মা তবু প্রশ্ন না করে পারলেন না
হ্যাঁ স্নাইপার কদিন দৌড়ঝাঁপ করে জাহাজের সেফটির জন্য এই ব্যবস্থাটুকুই করা গেছে
থ্যাঙ্ক ইউ স্যারও প্রান্তে ফার্স্ট অফিসার ফোন নামিয়ে রাখলেন
সেই রাতে প্রায় ঝোঁকের মাথায় ফার্স্ট অফিসার আনন্দ শর্মাকে ক্যাপ্টেন জগদীশ লাম্বা স্নাইপারের কথা বলেছিলেন আগে দুএকবার মাথায় পাক খেলেও ঠিক এটাই জাহাজের অন্য ক্রুদের জানাবেন সেভাবে ঠিক করেননি কিন্তু সেই মুহূর্তে ঘুম চোখে মুখ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল
ইচ্ছে থাকলেও জগদীশ লাম্বা সেই রাতে আর দেখা করেনি মানুষটার সঙ্গে দেখলেন পরের দিন ব্রেক ফার্স্টের টেবিলে হালকাপাতলা চেহারা হলেও প্রায় বেতের মত নমনীয় শরীর তারপর সামান্য কথা হয়েছিল মাত্র নামটাও জিজ্ঞাসা করেননি দরকারও মনে হয়নি রাতে লোকটা জাহাজে ওঠার পর ফার্স্ট অফিসারের কাছেই শুনেছিলেন লোকটার নাম নাকি গণপতি কামটে কিন্তু বেশ জানেন সেটা আসল নাম নয় তাই আর প্রয়োজন বোধ করেননি একান্তে শুধু একটা কথাই জানতে চেয়েছিলেন কোথায় নামবেন তিনি
উত্তরে লোকটা সংক্ষেপে জানিয়েছে মোম্বাসা ঢোকার আগে যথা সময় তার বোট চলে আসবে সুতরাং পরের দিনটা তিনি জাহাজে থাকবেন
উত্তরে জগদীশ লাম্বা কোনও কথা বলেননি তবে মনে মনে প্রার্থনা জানিয়েছেন তাই যেন হয় হিসেব মতো মোম্বাসার সমুদ্রে জাহাজ পৌঁছবে পরের দিন শেষ রাতে ভোরের আগে হারবার পাইলট হয়তো পাওয়া যাবে না সুতরাং ভালয় ভালয় আপদ বিদেয় হতে পারবে কিন্তু যদি অন্য রকম কিছু হয়ে যায় বলার কিছুই আর থাকবে না খবরটা নিশ্চয় ক্রুদের কাছেও পৌঁছে গেছে জাহাজ সত্যিই যদি জলদস্যুর শিকার হয় এভাবে অপরিচিত একজনকে জাহাজে তোলার খেসারত তাকেই দিতে হবে
স্বভাবতই লোকটাকে এরপর এড়িয়েই গেছে জগদীশ লাম্বা তবে জাহাজের অন্য ক্রুদের সঙ্গে মানুষটা ইতিমধ্যে যে বেশ জমিয়ে ফেলেছে নজর এড়ায়নি এমন কী যথেষ্ট রাশভারী মানুষ ফার্স্ট অফিসার আনন্দ শর্মা পর্যন্ত পরের সারাটা দিন ব্রীজে ডিউটির সময় ডেক অফিসারেরা হুইল হাউসে তাকে যথাসম্ভব নিজেদের পাশে রেখেছেন নেহাত ব্রীজে একমাত্র ক্যাপ্টেন ছাড়া অন্য কারো বসার নিয়ম নেই বলেই তাকে দিনভর হুইল হাউসে রাখা সম্ভব হয়নি।
বলা যায় লোকটাকে এড়াবার জন্যই সেদিন জগদীশ লাম্বাও হুইল হাউসে বেশিক্ষণ থাকেননি সকালের দিকে সামান্য মনিটর করেই চলে এসেছেন নীচের ইঞ্জিন রুমে তারপর নিজের ডেকে
সারাদিন ডেরুম আর অফিস ঘর করে প্রায় বোর হয়ে গিয়েছেন তখন দিন শেষে আকাশের আলো পড়ে আসতে শুরু করেছে তবে খোলা সমুদ্র সূর্য অস্ত যাবার পরেও অনেকটা সময় আলো থাকবে বিকেলে আর এক দফা চায়ের জন্য স্টুয়ার্ডকে ফোন করবেন কিনা ভাবছেন ডোর বেল বেজে উঠল
দরজা খুলতেই দেখেন সামনে দাঁড়িয়ে খোদ ফার্স্ট অফিসার শর্মা সাহেব প্রায় উদ্ভ্রান্ত অবস্থাস্যার পাইরেট স্পীড বোট নিয়ে ছুটে আসছে জাহাজের দিকে
দেখেই বোঝা যায় ভদ্রলোক যথেষ্টই নার্ভাস অকারণে নয় অবশ্য কার্গো শিপ এম ভি পোরবন্দর সোমালিয়া সমুদ্র দিয়ে আগেও গেছে কখনও এই অবস্থায় পড়তে হয়নি বলা বাহুল্য তাঁর নিজের অবস্থা বোধ হয় আরও খারাপ কিন্তু বাইরে কিছু মাত্র প্রকাশ করলেন না স্থির কণ্ঠে বললেনশিওর?’
হ্যাঁ স্যারপ্রায় রুদ্ধশ্বাসে শর্মা সাহেব বললেনআলো তো যথেষ্টই এখন খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে গোড়ায় ভেবেছিলাম জেলে নৌকো তেমন গুরুত্ব দেইনি কিন্তু কিছু কাছে আসতে বোটের দুজন যখন কাঁধে আর.পি.জি তুলে নিয়েছে সন্দেহের কারণ নেই আর
ওদের বোটে কজন রয়েছে?’ শর্মা সাহেব থামতে জগদীশ লাম্বা প্রশ্ন করলেন
মোট চারজন দুজনের হাতে আর.পি.জি একজন একে৪৭ নিয়ে চতুর্থজন বোটম্যান
রেডিও অফিসারকে খবর দেওয়া হয়েছে?’
শিওর নই স্যারশর্মা সাহেব কিছুটা যেন অপ্রস্তুততাড়াহুড়োয় খেয়াল হয়নি এখনই খবর
ঠিক আছে দেখছি আমিহাত তুলে শর্মা সাহেবকে থামিয়ে জগদীশ লাম্বা ইন্টারকম তুলে নিলেন আসলে ভিতরের ভয়ানক অবস্থাটা তিনিও গোপন করতে চাইছিলেন এমন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত যে পড়তে হবে ভাবতে পারেননি ৪০ হাজার টনের কার্গো শিপ এম ভি পোরবন্দর যথেষ্টই বড় অত্যাধুনিক যাবতীয় ব্যবস্থা বাইরে থেকে দেখলে বিরাট ব্যাপার কিন্তু ছোট এক বোটে সামান্য জনা চারেক জলদস্যুর আক্রমণের সামনে সদ্যজাত শিশু বলা যায় আত্মরক্ষার কোনও ব্যবস্থাই নেই বেশ জানেন ওই চারজন মাত্র হানাদার কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজের গ্যাংওয়ে দিয়ে উঠে আসবে উপরে পিঠে একে৪৭ ঠেকিয়ে জাহাজ নিয়ে যাবে কাছেই সোমালিয়ার জল সীমানার কোনও স্থানে ব্যস আন্তর্জাতিক আইন সেখানে ঠুঁটো জগন্নাথ সোমালিয়ার অনেক অংশই এখন বিদ্রোহীদের দখলে আন্তর্জাতিক আইন বড় জোড় সোমালিয়ার বৈধ সরকারকে অনুরোধ করতে পারে বিদ্রোহীদের দোহাই দিয়ে সোমালিয়া সরকার কিছুই করবে না বা করতে পারলেও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে
অগত্যা চলবে দর কষাকষি সে বিশাল অঙ্কের টাকা সেই টাকার একটা ভাগ হয়তো চলে যাবে সরকারের পকেটেও এ ব্যাপারে যা আইন তাকিয়ে দেখা ছাড়া কারও কিছু করবার নেই জাহাজ কোম্পানি সরকারি সংস্থা নয় সহজে রাজি হতে চাইবে না ভারত সরকারের সঙ্গে একের পর এক মিটিং চলতেই থাকবে ততদিন জাহাজের মানুষগুলি খাঁচায় আটকানো ইঁদুর পিঠের উপর ছোঁয়ানো একে৪৭ নিয়ে বেঁচে থাকা পান থেকে চুন খসলেই চড়থাপ্পড়লাথি প্রায় পশুর মতোই পড়ে থাকতে হবে দিনের পর দিন এই অবস্থায় থেকে অনেক ক্রু শেষ পর্যন্ত বদ্ধ উন্মাদ পর্যন্ত হয়ে গেছে।
ভাবতে ভাবতে ইন্টারকমে রেডিও অফিসারকে ধরেছিলেন তিনি খবরটা এখনই জানিয়ে দেওয়া দরকার কাছাকাছি এসকর্ট শিপ হেলিকপ্টার থাকলে একটা ব্যবস্থা হতেও পারে যদিও সে আশা খুবই ক্ষীণ বাটন টিপতেই ও প্রান্ত থেকে রেডিও অফিসারের কণ্ঠস্বরস্যার খবরটা সেকেন্ড অফিসারের কাছ থেকে পেয়ে এই মাত্র কন্ট্রোল রুম ধরেছি
ওকেঅযথা রেডিও অফিসারের সময় নষ্ট করলেন না জগদীশ লাম্বা টেলিফোন নামিয়ে রাখছেন আনন্দ শর্মা বললেনতবে তবে আমাদের স্নাইপারও কাজে লেগে পড়েছেন স্যার উনি ব্রীজেই ছিলেন তখন একদম সময় নষ্ট করেননি পারবে তো?’
স্নাইঅজান্তে মুখ ফসকে বলতে গিয়েও কোনও মতে দমন করলেন জগদীশ লাম্বা পুরনো কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ এক মুহূর্ত দেরি না করে কেবিন থেকে বের হয়ে সিঁড়ি ভেঙে ছুটলেন উপরে ব্রীজের দিকে ব্যাপারটা ভুলেই গিয়েছিলেন প্রায়
ইতিমধ্যে খবরটা সারা জাহাজেই ছড়িয়ে পড়েছে অফিসারদের কয়েকজনও হাজির হয়েছেন হুইল হাউসে শর্মা সাহেব কিছুমাত্র ভুল বলেননি সামনে তাকাতেই ছুটে আসা পাইরেট বোটটাকে পরিষ্কার দেখতে পেলেন জগদীশ লাম্বা প্রায় শিউরে উঠলেন বোটের উপর কাঁধে আর.পি.জি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুজন দুরন্ত গতিতে বোট চলেছে সমুদ্রে জোরাল ঢেউ তবু দিব্যি সোজা হয়েই দাঁড়িয়ে রয়েছে বোঝা যায় এই কাজে যথেষ্টই অভিজ্ঞ এম ভি পোরবন্দর বড় জাহাজ এখনও মাইল খানেক দূরে যদিও তবু আনাড়ি হাতে ছুঁড়লেও লক্ষ ব্যর্থ হবার কথা নয় শুধু ট্রিগার টেপার অপেক্ষা
ক্যাপ্টেন জগদীশ লাম্বা এবার কতকটা যেন সন্তর্পণেই চোখ ফেললেন নীচে জাহাজের সামনের দিকে জাহাজের মাথায় বোএর কাছে ডেকের উপর উপুড় হয়ে প্রায় শুয়ে রয়েছে লোকটা বুলওয়ার্কের ফাঁকে টেলিস্কোপিক রাইফেলের ব্যারেল রেখে প্রায় নিথর হয়ে পড়ে আছে চোখ অপটিকাল গানসাইটের উপর ব্যাপারটা নিজের চোখকেও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি গতরাতে স্নাইপারের কথা হঠাৎ বলে ফেলেছিলেন এভাবে সত্যি হবে ভাবতেও পারেননি গত দুদিন চেষ্টা তো কম করেননি তারপরে জাভেদ বার্কির ওই ফোন পরপর সাজাতে গিয়ে হঠাৎ যেন একটা যোগসূত্র খুঁজে পেলেন অন্য একটা ভয় তখনই চেপে বসল ভিতরে লোকটা পারবে তো? ঠিক এই প্রশ্নটাই শর্মা সাহেব তাকে একটু আগে করেছিলেন পাইরেট বোটে দুজনের হাতে আর.পি.জি একজন ঘায়েল হলে অন্যজন হয়তো হাতের অস্ত্র ছুঁড়তে মুহূর্ত মাত্র দেরি করবে না ভাবতে গিয়ে বুক কেঁপে উঠল তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে শর্মা সাহেব অস্ফুট গলায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেনকী মডেলের রাইফেল? দেখেছেন?’
দেখেছি স্যার এম২৫
উত্তরে কিছুটা যেন হতাশ হলেন জগদীশ লাম্বা জাহাজের ক্যাপ্টেন আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপারে সামান্য পড়াশোনা আছে এম২৫ স্নাইপার পুরনো মডেলের আমেরিকান রাইফেল সম্ভবত গত শতকের নব্বুইয়ের দিকে বাজারে আসে রেঞ্জও তেমন বেশি নয় এক কিলোমিটারের মতো সন্দেহ নেই সেই কারণেই অপেক্ষা করছে লোকটা আরও কিছু কাছে আসার জন্য কিন্তু তার চাইতেও বড় কথা লোকটা এ ব্যাপারে কতটা দক্ষ কিছুই জানা নেই ব্যাপারটা মাথায় আসতেই তিনি জাহাজ থামিয়ে সাদা ফ্লাগ তুলে দেবার নির্দেশ দিলেন মুহূর্তে নির্দেশ চলে গেল ইঞ্জিন রুমে ব্রীজ তথা হুইল হাউসের সবাইকে সতর্ক করা হল কেউ যেন ভুলেও জাহাজের বোএর দিকে চোখ না দেয় হানাদারদের সন্দেহ হতে পারে
জগদীশ লাম্বার নির্দেশ দুটো যে যথেষ্টই কাজের হয়েছিল বোঝা গেল সামান্য বাদেই জাহাজের গতি ক্রমশ কমে তখন দাঁড়িয়ে গেছে শান্ত সাগরের বুকে জাহাজ প্রায় স্থির উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সাদা ফ্ল্যাগ সেদিকে তাকিয়ে আর.পি.জি হাতে লোকদুটোও যেন কিছুটা রিল্যাক্স যদিও কাঁধের অস্ত্র যথাস্থানেই শার্প শ্যুটার লোকটা এই মুহূর্তটুকুর জন্যই যেন অপেক্ষা করছিল সময় নষ্ট না করে তৎক্ষণাৎ ট্রিগার টিপল চাপা একটা শব্দ ভেসে এল কানে আর.পি.জি হাতে একজন মুহূর্তে ছিটকে পড়ল বোটের উপর কাঁধের আর.পি.জি গড়িয়ে পড়ল নিক্ষিপ্ত গুলি তার মাথায় বিঁধেছে মনে হল আর.পি.জি হাতে পাশের জন কৌতূহলে সামান্য ঘাড় ফিরিয়েছিল মাত্র ততক্ষণে নিক্ষিপ্ত দ্বিতীয় গুলিটা তার মাথা ফুঁড়ে ফেলেছে বোটের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল সেও একই দশা ঘটল একে৪৭ হাতে তৃতীয় জনের সবশেষে বোটম্যান
তীব্র গতিতে ছুটন্ত পাইরেট বোট থামিয়ে দেওয়া হলেও সাগরে ভাসমান এম ভি পোরবন্দর একেবারে স্থির তো নয় এই অবস্থায় এমন নিখুঁত লক্ষ্যভেদ চোখের সামনে দেখে হুইল হাউসে কারও মুখে তখন কথা নেই প্রায় নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে ততক্ষণে নীচে বোএর কাছে শার্প শুটার উঠে দাঁড়িয়েছে
কন্টেনার বোঝাই জাহাজ স্টারবোর্ড ধরে ব্রীজে উঠে আসতে অনেকটাই সময় লাগল লোকটার ততক্ষণে রাইফেলের ব্যারেল খুলে পিঠের ব্যাগে ভরে ফেলেছে হুইল হাউসে তখনও কারও মুখে কথা ফোটেনি এভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে ভাবতেই পারেনি কেউ সামনে নির্বাক মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে লোকটা জগদীশ লাম্বাকে লক্ষ করে বললথ্যাঙ্ক ইউ ক্যাপ্টেনসাব বার্কিভাই ফোন করলে জানিয়ে দেবেন কথা দিয়েছিলাম আর আগামী কাল সকালের আগেই মোম্বাসা সাগরে পৌঁছতে পারলে ভাল হয় সহজে নেমে যেতে পারব
ছবি: ইন্টারনেটের সৌজন্যে
প্রথম প্রকাশ: কিশোর ভারতী জানুয়ারি ২০১৯ (বইমেলা গল্প স্পেশাল ১)
আপলোড: ২৮/৩/২০১৯

5 comments:

  1. রীতিমত চলচ্চিত্র বানানোর মত গল্প

    ReplyDelete
  2. খুব সুন্দর একটি গল্প

    ReplyDelete